ঢাকা , রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগ, তদন্তে মিলল তিন মিটারের হিসাব

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৬-০৯-২০২৬ ০৩:৩৭:৪২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-০৯-২০২৬ ০৩:৩৭:৪২ অপরাহ্ন
বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগ, তদন্তে মিলল তিন মিটারের হিসাব ​ছবি: সংগৃহীত
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিয়ো প্রকাশের পর গ্রেপ্তার হওয়া সিফাত আব্দুল্লাহর বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিলের হিসাব খতিয়ে দেখেছে গাজীপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি। তদন্তে একটির পরিবর্তে বাড়িটিতে তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত চার মাসে এসব মিটারে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। এ সময়ে তিন মিটারে মোট বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।

সম্প্রতি, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সিফাত আব্দুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেন। ভিডিয়োটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ভিডিয়োতে সিফাত দাবি করেছিলেন, জুলাই ও আগস্ট— এই দুই মাসে তার বিদ্যুৎ বিল প্রায় ১০ হাজার টাকা এসেছে। এর আগে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এক মাসের বিদ্যুৎ বিল একটি পুরো পরিবারকে জিম্মি করে ফেলছে।’

সিফাতের অভিযোগের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে গাজীপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিস। উপমহাব্যবস্থাপক মো. আহসান কবিরের স্বাক্ষর করা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিফাত আব্দুল্লাহর বাবার নাম মো. সেকান্দার আলি। তাদের দোতলা বাড়িতে মোট তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এস০০০৪৩৩*৭ নম্বর মিটারে মে মাসে ৪৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল এসেছে ৩১৭ টাকা। জুনে ৫০ ইউনিটের বিল ৩৪২ টাকা, জুলাইয়ে ১৫০ ইউনিটের বিল ১ হাজার ১৮২ টাকা এবং আগস্টে ৭৫ ইউনিটের বিল ৫১৩ টাকা। চার মাসে এই মিটারে মোট ৩২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে এবং বিল এসেছে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।

এস০০০২১৮*৫ নম্বর মিটারে মে মাসে ২৫০ ইউনিট ব্যবহারের বিল হয়েছে ১ হাজার ৮১২ টাকা। জুনে ২০০ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৫৮৪ টাকা, জুলাইয়ে ৪০০ ইউনিটের জন্য ৩ হাজার ৫৯৪ টাকা এবং আগস্টে ২৮৫ ইউনিটের জন্য ২ হাজার ৩৯৭ টাকা বিল এসেছে। চার মাসে এই মিটারে মোট ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। বিলের পরিমাণ ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা।

অন্যদিকে, এস০০০৪২৪*৭ নম্বর মিটারে মে মাসে ১২৫ ইউনিটের বিল এসেছে ৮৪৭ টাকা। জুনে ১২০ ইউনিটের বিল ৬৯০ টাকা, জুলাইয়ে ২০৫ ইউনিটের বিল ১ হাজার ৬৩৩ টাকা এবং আগস্টে ১৭৫ ইউনিটের বিল হয়েছে ১ হাজার ৩৬২ টাকা। চার মাসে এই মিটারে মোট ৬২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। বিল এসেছে ৪ হাজার ৫৩২ টাকা।

পল্লি বিদ্যুতের তদন্তে দেখা যায়, মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত চার মাসে তিনটি আবাসিক মিটারে সম্মিলিতভাবে ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। এই সময়ে তিন মিটারের বিপরীতে মোট বিল দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।

তদন্ত দলের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাড়িতে গিয়ে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের প্রকৃত তালিকা সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা। তবে সিফাতের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। একপর্যায়ে বাড়ির গেটও বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সিফাত আব্দুল্লাহ যে বাড়িতে থাকেন, সেখানে তিনটি পৃথক আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোনো অভিযোগ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু একটি মিটারের হিসাব দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। বাড়িটির সব মিটারের বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বিলের তথ্য একসঙ্গে বিবেচনা করেই অভিযোগের বিষয়টি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ